দক্ষিণেশ্বরে কেদারের উৎসব
দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কেদারাদি ভক্তসঙ্গে কথা কহিতেছেন। আজ রবিবার, অমাবস্যা, (২৯
শে শ্রাবণ ১২৮৯)
১৩ই অগস্ট ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দ। বেলা ৫টা হইবে।
শ্রীযুক্ত কেদার চাটুজ্যে, হালিসহরে বাটী। সরকারী অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাজ করিতেন। অনেকদিন ঢাকায় ছিলেন; সে-সময়ে শ্রীযুক্ত বিজয় গোস্বামী তাঁহার সহিত সর্বদা শ্রীরামকৃষ্ণের বিষয় আলাপ করিতেন। ঈশ্বরের কথা শুনিলেই তাঁহার চক্ষু অশ্রুপূর্ণ হইত। তিনি পূর্বে ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ছিলেন।

ঠাকুর
নিজের ঘরের দক্ষিণের বারান্দায় ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। রাম, মনোমহন, সুরেন্দ্র, রাখাল, ভবনাথ, মাস্টার
প্রভৃতি অনেক ভক্তেরা উপস্থিত আছেন। কেদার আজ উৎসব করিয়াছেন। সমস্ত দিন আনন্দে
অতিবাহিত হইতেছে। রাম একটি ওস্তাদ আনিয়াছিলেন, তিনি গান
গাহিয়াছেন। গানের সময় ঠাকুর সমাধিস্থ হইয়া ঘরের ছোট খাটটিতে বসিয়াছিলেন। মাস্টার ও
অন্যান্য ভক্তেরা তাঁহার পাদমূলে বসিয়াছিলেন।
[সমাধিতত্ত্ব ও সর্বধর্ম-সমন্বয়-হিন্দু, মুসলমান ও খ্রীষ্টান]
ঠাকুর কথা কহিতে কহিতে সমাধিতত্ত্ব বুঝাইতেছেন। বলিতেছেন, “সচ্চিদানন্দলাভ হলে সমাধি হয়। তখন কর্মত্যাগ হয়ে যায়।

“লাভের
পর যদি কেউ বিচার করে, সে যেমন মৌমাছি মধুপান করতে করতে আধ আধ গুনগুন করে।”
ওস্তাদটি
বেশ গান গাহিয়াছিলেন। ঠাকুর প্রসন্ন হইয়াছেন। তাঁহাকে বলিতেছেন, “যে
মানুষে একটি বড় গুণ আছে, যেমন সঙ্গীতবিদ্যা, তাতে
ঈশ্বরের শক্তি আছে বিশেষরূপে!”
ওস্তাদ-মহাশয়, কি
উপায়ে তাঁকে পাওয়া যায়?
শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তিই সার, ঈশ্বর তো
সর্বভূতে আছেন; তবে ভক্ত কাকে বলি? যার মন
সর্বদা ঈশ্বরেতে আছে। আর অহংকার অভিমান থাকলে হয় না। ‘আমি’রূপ
ঢিপিতে ঈশ্বরের কৃপারূপ জল জমে না, গড়িয়ে যায়। আমি যন্ত্র।
(কেদারাদি
ভক্তদের প্রতি)-“সব
পথ দিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। সব ধর্মই সত্য। ছাদে উঠা নিয়ে বিষয়। তা তুমি পাকা সিঁড়ি
দিয়েও উঠতে পার;
কাঠের সিঁড়ি
Foot Note:
“আবার
ভক্তেরা তাঁকেই নানা নামে ডাকছে; এক ব্যক্তিকেই ডাকছে। এক পুকুরের
চারটি ঘাট। হিন্দুরা জল খাচ্ছে একঘাটে বলছে জল; মুসলমানরা
আর-এক
ঘাটে খাচ্ছে বলছে পানি; ইংরেজরা আর-একঘাটে
খাচ্ছে বলছে ওয়াটার; আবার অন্য লোক একঘাটে বলছে aqua।
“এক ঈশ্বর তাঁর নানা নাম।”
